ঢাকা, সোমবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

পর্দার অাড়ালে- পাঞ্জাব বিশ্বাস : সদরুল আইন

 

 

 

 

কে এই পাঞ্জাব বিশ্বাস? কি তার সত্যিকারের পরিচয়? রাজনীতিতে কোনো পদে না থেকেও বাংলদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত, সন্ত্রাসের চারণভূমি পাবনা ৪ নং আসনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছে সর্বোচ্চ কোনঠাসা থেকেও সাধারণ জনগণের কাছে জনপ্রিয়তায় তিনি কেন শীর্ষে এবং আসন্ন নির্বাচনী অালোচনায় কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আসনভিত্তিক আলোচানার কেন্দ্রবিন্দুতে? কেনো তিনি সচিবালয়ে দলীয় কার্যালয়ে চাপা আলোচনায় রয়েছেন?

 

 

 

 

 

পর্দার অাড়ালে রাজনীতির গোপন কুঠুরিতে তাকে নিয়ে কিছু ঘটতে যাচ্ছে এমন আলোচনা চলমান? কেউ মনে করছেন, আওয়ামীলীগ সরকারের যে বিশাল অর্জন রয়েছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তা জনগণের সামনে দক্ষতার সাথে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার যে তাগিদ দিচ্ছেন, বাংলদেশের সর্বজন বিদিত বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর এবং পাবনা ৪ তথা পাবনা জেলার রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে যে নেত্রীত্ব শুন্যতা তা পুরণের জন্য পাঞ্জাব বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ বলে দলীয় হাইকমান্ড বিবেচনা করছেন।

 

 

 

 

 

 

 

পাবনার রাজনীতিতে একসময় অধ্যাপক আবু সাইদকে দলীয় হাইকমান্ড নির্ভর করলেও, ১/১১ তে তার বিতর্কিত ভুমিকা দলীয় হাইকমান্ডের বিশ্বস্ততা হারিয়েছেন। অন্যদিকে একই আসনের শামসুল হক টুকটুকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করে পাবনার রাজনীতি হাতে তুলে দিলেও তার বিতর্কিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য জনবিচ্ছিন্নতার সাথে দলীয় হাইকমান্ডকে আশাহত করেছে। চলমান সময়ে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সামসুর রহমান শরীফের উপর আস্থা নিয়ে ভুমি মন্ত্রী করে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগকে অলংকৃত করলেও জনাব শরীফের কর্মকান্ড আওয়ামীলীগ সরকারকেই বিব্রত করে তুলেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর প্রকল্প যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবনের বড় অর্জন, তাও সেখানকার সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। দলীয় হাইকমান্ডে বিবেচনায় পাঞ্জাব বিশ্বাস এগিয়ে থাকার কারণ হিসেবে একজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাবনা জেলায় প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক দলের নেত্রীত্বকে বিবেচনায় রেখে আওয়ামীলীগ দলীয় সিদ্ধান্ত নিবেন এটাই স্বভাবিক। বিএনপির দুইজন কেন্দ্রীয় নেতার সাথে আওয়ামীলীগের মতো বড় দলের শক্ত গনমুখ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

 

 

 

 

 

 

সেই বিবেচনায়, যাদুকরী সংগঠক, সৎ এবং আদর্শের জন্য জনগণের কাছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী আস্থা এবং দেশসেরা বাগ্মিতার জন্য পাঞ্জাব বিশ্বাস মুল্যায়নের চমকে রয়েছেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। আসন্ন মন্ত্রীসভার রদবদলের সময় তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের চমকে চলে এলেও আশ্চর্য হওয়ার থাকবেনা। পাঞ্জাব বিশ্বাস হাইকমান্ডের স্বচ্ছ গুডবুকে রয়েছে এ তথ্য দলের সর্বত্রই পাওয়া যাচ্ছে। সহসাই তার মুল্যায়ন হচ্ছে এ কথা দলীয় পর্যায়ে চলমান। পাবনা -৪ অাসন, এ অাসনকে ঘিরে রয়েছে সারা দেশের উৎসুক জনতার দৃষ্টি।

 

 

 

 

 

 

এ অাসনে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে সন্ত্রাসীবাহিনী লালল পালন, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মামলা দিয়ে জব্দ করাসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা বিগত ৪ বছরে করা হয়নি। প্রশাসনের নাকের ডগায় তৈরি করা হয়েছে অার একটি প্রশাসন। এই জনপদকে পরিণত করা হয়েছে বিভিষিকাময় জনপদে। সরকারের সব অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে স্বার্থান্বেষি কুচক্রি একটি মহল। ভয়ঙ্কর মৃত্যূপুরীতে পরিণত করা হয়েছে এ অাসনটি। ক্ষমতার দাপটের পাদদেশে দাঁড়িয়েও নিরবে, নিভৃতে জনতার পাশে প্রকাশ্যে কাজ করে গেছেন একটি বিবেক, একটি জাগ্রত মুখ, একজন কলম সৈনিক, একজন সাবেক সাংসদ, তিনি অার কেউ নন, অাটঘরিয়া- ঈশ্বরদী অাসনের সর্বজন গ্রহণযোগ্য প্রাণ পুরুষ, গণমানুষের নির্লোভ নেতা, বিশিষ্ট কবি পাঞ্জাব বিশ্বাস।

 

 

 

 

 

 

পাবনা-৪ অাসনের নিপীড়িত জনতার ভরসার একটিই জায়গা পাঞ্জাব বিশ্বাস। যিনি পাবনাবাসিকে কখনো ত্যাগ করেননি বরং অাপন মমত্ব দিয়ে সারাটি জীবন অন্যায় সমরে জনতার পাশে থেকেছেন নির্ভীক সৈনিক হয়ে। ক্ষমতাভোগী কথিত বিতর্কিত নেতারা বারবার তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে কিন্তু সত্যের ধারকবাহক পাঞ্জাব বিশ্বাসের কাছে হয়েছে পরাজিত। এনএসঅাই,গোয়েন্দা সংস্হা এবং জনতার ম্যান্ডেটের তথ্যের ভিত্তিতে যদি অাওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় তবে অাগামী নির্বাচনে পাবনা-৪ অাসনে অাওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হতে যাচ্ছেন পাঞ্জাব বিশ্বাস। অার অাওয়ামীলীগ যদি প্রার্থী নির্বাচনে ভুল করে, তবে এ অাসনটি তাদের হাত ছাড়া হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

 

 

 

 

 

 

 

এখন প্রশ্ন হল, পাঞ্জাব বিশ্বাস কেন কেন্দ্রিয় অাওয়ামীলীগে টক অব দি সাবজেক্টস। তার বহুবিধ কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হল, এ অাসনটি যদি ধরে রাখতে হয় তবে পাঞ্জাব বিশ্বাসই অাওয়ামীলীগের একমাত্র পাথেয়। যে কারনে হঠাৎ করেই তিনি কেন্দ্রিয় রাজনীতির মঞ্চে অালোচনার শীর্ষে। মন্ত্রীসভার রদবদল অাসন্ন। জনপ্রিয়তাহীন, বিতর্কিত,দলের বদনাম কামাইকারী পেশীশক্তি প্রদর্শনকারী কথিত বাহিনী গঠনকারী লুটেরা নেতাদের এবার মনোনয়ন দেবে না অাওয়ামীলীগ এটা নিশ্চিত। এ কারনে জনপ্রিয় তরুণ নেতাদের জয়জয়াকার দেখা যাবে অাওয়ামীলীগের অাগামী মনোনয়নে।

 

 

 

 

 

 

 

 

সেই সব ভাগ্যবান রাজনৈতিকদের একজন পাঞ্জাব বিশ্বাস। একটি বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে , অাসন্ন মন্ত্রীসভা রদবদলে পাবনা ৪ আসনের জনগণের সামনে রদবদলের এক অভাবনীয় চমক থাকতে পারে বলে ব্যপক গুঞ্জন আছে। তবে এ বিষয়ে পাঞ্জাব বিশ্বাসের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, উপমহাদেশের রাজনীতিতে দক্ষ, প্রিয় নেত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যা কিছুই সিদ্ধান্ত নিবেন, তাই কল্যাণের।

 

 

 

 

 

 

সদরুল অাইন, [ সাবেক সম্পাদনা সহকারী, দৈনিক ইত্তেফাক ও পদকপ্রাপ্ত দেশ সেরা সাংবাদিক, লেখক এবং শিক্ষক]

Translate »