২৯ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার

১৭ বছর ‘শত্রুর’ সঙ্গে বসবাস, ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেল জোৎনা!

Loading...

 

 

 

 

প্রথমবার্তা ডেস্ক, রিপোর্টঃ        প্রতিনিয়ত স্বামীর নির্যাতন আর অত্যাচারে অতিষ্ঠ জান্নাতুল ফেরদৌস জোৎনার অবশেষে ঠাঁই হল লামা সরকারি হাসপাতালের বেডে। সেই স্থানটিও নিরাপদ ছিল না তার জন্য। পাসণ্ড স্বামী আব্দুর রহিম বুধবার বিকেলে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার বাবা, ভাই, বোনকে আহত করে। কেড়ে নেয় বুকের ধন বড় ছেলে রাকীব (১৬) কে। ১৭ বছরের সংসার জীবনে একদিনের জন্য সুখে হাসতে পারেননি জোৎনা। তার স্বামী রহিম অনেকবার গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল তাকে। সন্তান ও আশপাশের লোকজন আর ভাগ্য বাঁচিয়ে দেয় তাকে।

 

 

 

 

হতভাগী জান্নাতুল ফেরদৌস জোৎনা বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড রাজবাড়ি এলাকার মোঃ রহমত উল্লাহ’র মেয়ে।

 

 

 

 

কান্না জড়িত কন্ঠে জোৎনার বাবা মোঃ রহমত উল্লাহ বলেন, ১৭ বছর আগে লামা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আবুল হাসেম এর ছেলে আব্দু রহিমের (৩৮) সাথে আমার মেয়ের বিবাহ দেই। প্রতিনিয়ত জামাইয়ের নানান চাহিদা থাকত। আমি রিকশা চালিয়ে তা যথা সম্ভব পূরণ করতাম। অবশেষে নিজের বাড়ির ভিটা থেকে কিছু জায়গা দিয়ে মেয়ে ও জামাইকে থাকার জন্য বাড়ি করে দেই।

Loading...

 

 

 

 

 

 

তাতেও সুখ হলো না আমার মেয়ের। ২৬ এপ্রিল বুধবার জামাই রহিম প্রচণ্ড মারধর করে মুমূর্ষু অবস্থায় আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি দ্রুত মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। রহিম তার ভাই ও আত্মীয় স্বজন ৮/১০ কে নিয়ে বুধবার বিকেলে হাসপাতালে হামলা চালায় ও আমাদের মারধর করে। এসময় আমি, আমার ছেলে কামাল (৩০), মেয়ে তাসলিমা (২৪) আহত হই। আমরা সকলে লামা হাসপাতালে ভর্তি আছি।

 

 

 

 

 

 

রাত ৯টায় জ্ঞান ফিরে এলে গৃহবধু জোৎনা কান্না করে বলেন, আমাকে এত মেরেও তার শান্তি হয়নি। সে আমার পরিবারের সকলের গায়ে হাত তুলেছে। এমনকি সে আমার ছেলে রাকীবকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।

 

 

 

 

 

গত ২২ এপ্রিল সে আমাকে গলায় ওড়না পেচিঁয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। গলায় আঘাতের চি‎হ্ন এখনো আছে। আমার ছেলে আমাকে বাচিঁয়েছে। তখনও আমি ৩দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। অপরদিকে বুধবার দিবাগত রাত ৮টায় নিজেকে আহত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় পাষন্ড স্বামী আব্দু রহিম।

 

 

 

 

 

Loading...

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার বিকেলে মুমূর্ষু অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌসকে থানায় নিয়ে আসলে আমরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই। তারা এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

Loading...

You must be logged in to post a comment Login


মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

ধর্ম চিন্তা

[X]