১৫ এপ্রিল ২০১৭, শনিবার

বৈশাখী উৎসব কি ঘরমুখী হয়ে যাচ্ছে?

 

 

 

 

প্রথমবার্তা ডেস্ক, রিপোর্টঃ   ২০০১ সালে বর্ষবরণের দিন এক বন্ধুকে নিয়ে গিয়েছিলাম রমনায়। বটমূলের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে কীর্তন শুনছিলাম। ঠিক ওই সময় হঠাৎ বিকট শব্দ। তাকিয়ে দেখলাম ৪০-৫০ ফিট উপরে বিদ্যুচ্চমকের মতো আলোককুণ্ডলী। আর নিচে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধ দলবলে দৌঁড়াচ্ছে বটমূল এলাকা থেকে।

 

 

 

 

 

 

রিপোর্টারসুলভ মানসিকতায় আমি দ্রুত সেখানে ছুটে গিয়ে দেখি কয়েকজনের লাশ পড়ে আছে। নিহতদের সারা শরীর কালো হয়ে গেছে। খণ্ডবিখণ্ড দেহের ভেতরে নাড়িভুড়ি কিছু নেই। একটু ঝুঁকে দেখলাম সেগুলো পুড়ে গেছে। রক্ত ঝরছে অনেকের কাটা হাত পা থেকে। কিছুক্ষণ পর লেকের পাশে আরেকটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ হয়। এরপর বটমূল এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়।

 

 

সেদিন অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছিলাম এতো বড় ঘটনার পর শাহবাগ, মৎস ভবন, সোহারাওয়ার্দি উদ্যানসহ পুরো এলাকায় লোকজন গিজগিজ করছিল। রমনা বটমুলে গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনাটা তখন পুরো মেলায় ছড়িয়ে পরলেও লোকজনকে আতংকিত হয়ে (বটমূল ছাড়া) মেলা ছেড়ে যেতে দেখিনি। পরের বছর ২০০২ সালেও প্রচুর মানুষ হয়েছিল বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে। আতংক দেখিনি।

 

 

 

 

 

 

এরপর প্রতি বছর রমনায় মানুষ বাড়তে দেখেছি। কিন্তু অবাক বিষয় গত বছর রমনা এলাকায় লোকজন কম দেখা গেছে। ভেবেছিলাম, তিন দিনের ছুটি থাকায় বহুলোক রাজধানী ছেড়ে বাড়ি চলে যাওয়ার কারণে মানুষ কম হয়েছে।

 

 

 

 

 

কিন্তু অবাক হলাম এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রমনায় গিয়ে। গত বারের মতোই অবস্থা। সকাল থেকে লক্ষ্য করলাম যে মৎসভবন এলাকা উপচে পড়তো সেখানে সেই ঢল নেই। কয়েকজন বন্ধুকে ফোন দিলাম, তারা মেলায় এসেছে কি না জানার জন্য। প্রায় প্রত্যেকেই জানালো তাদের বিভিন্ন আত্মীয়র বাড়িতে বর্ষবরণ উপলক্ষে দাওয়াত থাকার কারণে রমনায় আসতে পারেনি। পরে সাংবাদিক সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেও একই রকম খবর পেলাম।

 

 

আমার কাছে মনে হচ্ছে ঢাকার মানুষের কাছে বৈশাখী উৎসব এখন রমনামুখী থেকে ঘরমুখী হওয়া শুরু হয়েছে। গত কয়েক বছর এমন বার্তাই যেন দিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার কড়াকাড়ি, জঙ্গি ভয়, নাকি উৎসবের প্রতি টান কমছে? হিসাব মেলাতে পারছি না।

You must be logged in to post a comment Login



মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner