১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার

১৪ দিনের জেল সুদীপের

প্রথমবার্তা ডেস্ক, রিপোর্টঃ             রোজভ্যালি-কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জিকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠাল ভুবনেশ্বরের সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত। গৌতম কুণ্ডুকে রোজভ্যালি–কাণ্ডে এবার ভুবনেশ্বরের জেলে রেখেই জেরার জন্য আদালতে আবেদনও জমা দিল সিবিআই।

 

 

 

 

 

তদন্ত যখন চলছে এবং দু’‌জন সাংসদ যখন জেলে, তখন তদন্তে সিবিআই পেল অন্য এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রের দাবি, রোজভ্যালি-কাণ্ড সামনে আসার পর বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি নাকি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
এদিন সুদীপের বিরুদ্ধে আদালতে সিবিআই জানাল, তদন্ত চলাকালীন যে সমস্ত নথিপত্র সুদীপ ব্যানার্জি সিবিআই–‌কে দিয়েছেন, তা ভুয়ো। বস্তুত, সুদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সিবিআই এই তথ্যটি আদালতে জানায়নি, যা এদিনই বলল।

 

 

 

 

 

তাপস পালের মতো তাঁকেও রাখা হচ্ছে সেই ঝাড়পডা জেলেই। ৯ দিন সিবিআই হেফাজতে থাকার পর সুদীপকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয় দুপুর ৩টে নাগাদ। তাঁকে যখন আদালতে আনা হচ্ছে, তখন বেশ কিছু তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক ‘‌মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’‌ স্লোগান দিচ্ছিল।

 

 

 

 

 

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বেষ্টনীতে সুদীপকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিবিআই আমাকে ফাঁসাতে চায়। সংসদে নোটবন্দী নিয়ে বলেছি, তাই এই ঘটনা। বীরের মতো এসেছি, বীরের মতোই যাব। এদিন সিবিআই আদালতে বলে, সাংসদ জাল নথি পেশ করেছেন।

 

 

 

 

 

আদালতে সিবিআইয়ের তরফে কোনো মিথ্যে তথ্য জানানো হচ্ছে না। এজেন্টদের বৈঠকে উনি যে ছিলেন, সেই নথি আদালতে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর যখন প্রথম বার সুদীপকে আদালতে তোলা হয়, তখন তিনি সওয়াল করেছিলেন। এদিনও বিচারকের কাছ থেকে বলার অনুমতি নিয়ে প্রায় ১২ মিনিট সওয়াল করলেন।

 

 

 

 

সুদীপ বললেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে নোটবন্দী নিয়ে লোকসভায় সরব হয়েছিলাম। আমাকে ফাঁসাতে কৌশলী শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ক্যালকাটা বয়েজ স্কুলের কাছেই থাকি। কতজনকেই তো ভর্তির জন্য সুপারিশ করি। আমি তো একজন জনপ্রতিনিধি। আমার স্ত্রীও চৌরঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক।

Loading...

 

 

 

 

 

সিবিআই তো দেশের একটি সম্মানজনক সংস্থা। কেন ছোট বিষয়কে এভাবে দেখানো হচ্ছে?‌ এই আদালত জামিন দিতে পারে না। বলা হচ্ছে, আমি নাকি অনেক বৈঠক করেছি। সে তো মুকেশ আম্বানির সঙ্গেও মধ্যাহ্নভোজ করেছি। তার ছবিও আছে। বলা হচ্ছে, আমি নাকি কাজ দিয়েছি। সেটা কি অপরাধ?‌

 

 

 

 

 

আমাকে ভিডিও দেখান তো, যেখানে আমি বলেছি এজেন্টদের টাকা তুলতে। আমি কখনও বলিনি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম।

 

 

 

 

রাষ্ট্রপতিও সে–কথা জানেন। আমাকে ডাকা হয়েছিল, তদন্তের স্বার্থে সাহায্যের জন্য। সাহায্য করেছি। কিন্তু আমাকে হঠাৎই গ্রেপ্তার করা হল। ’‌ এরপর তিনি বলেন, ‘‌আজ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। দেশের গৌরবের দিন। ’‌

 

 

 

 

 

সিবিআই আইনজীবী কালীচরণ মিশ্র বলেন, সুদীপ ব্যানার্জির সঙ্গে গৌতম কুণ্ডুর সরাসরি যোগাযোগ ছিল, তার প্রমাণ আছে। স্কুলকে টাকা দেওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সুদীপ ও গৌতম কুণ্ডু ছিলেন। সিবিআই–‌কে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক স্বার্থে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সিবিআই কখনই এ ধরনের কাজ করে না।

 

 

 

 

 

বস্তুত, আদালতে যখন সওয়াল ও জবাবের পর্ব চলছে, তখনই ঝাড়পডা জেলে অন্য একটি সেল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এখানেই রাখা হবে সুদীপকে। আদালতে আনার আগে বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে দু’‌দফায় জেরা করা হয় সাংসদকে।

 

 

 

 

 

লন্ডন ভ্রমণ নিয়ে তিনি যে কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা ঠিক নয় বলে আদালতকে জানিয়েছে সিবিআই। দ্বিতীয় দফায় সিবিআই হেফাজতে নেয়ার দিন আদালতে ওই নথি ও ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়া হয়েছিল। সওয়াল–জবাব শেষে দেড়ঘণ্টা ধরে কেস ডায়েরি পড়েছিলেন বিচারক।

 

 

 

 

সুদীপকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার পর যে দু’‌জন ব্যক্তি আদালতে সুদীপ ব্যানার্জি ও রোজভ্যালির যোগাযোগ নিয়ে বয়ান দিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকেও জেরা করা হয়েছিল। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার এক প্রভাবশালীর সঙ্গে গৌতম কুণ্ডুর যোগাযোগ ছিল, এমন তথ্যও তাঁরা দিয়ে গেছেন।

 

 

 

 

সুদীপ ব্যানার্জির বিরুদ্ধে যে সমস্ত তথ্য সিবিআই সংগ্রহ করেছে, তা ইতিমধ্যে আদালতকে দেয়া হয়েছে। গৌতম কুণ্ডুকে আদালতের নির্দেশে জেলে গিয়ে জেরার অনুমতি পেলে এই তদন্তে আরও গতি আসবে বলে মনে করছে সিবিআই। ‌

Loading...

সূত্র: আজকাল

Loading...

মতামত

প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ পেতে

আপনার ই-মেইল দিন

Delivered by FeedBurner

[X]